কাহালুতে পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে ৩০০ মণের বেশি মাছ নিধন, ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি!
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে ৩০০ মণেরও অধিক মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এতে পুকুর মালিকের আনুমানিক ১ থেকে ১.৫ কোটি (দেড় কোটি) টাকার বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কাহালু থানার তেলিয়ান গ্রামের মো. হবিবর রহমানের ছেলে মো. মবিস রহমান দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছিলেন। গ্রামের সাড়ে ১২ বিঘা আয়তনের একটি বড় পুকুরে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করেন। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও পুকুর পাহারা শেষে সবাই ঘুমাতে যান।
আজ সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন ও পুকুর মালিক মবিস রহমান পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখতে পান চাষ করা রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত মাছ মরে ভেসে উঠছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাড়ে ১২ বিঘার বিশাল পুকুরের চারপাশ মরা মাছে সয়লাব হয়ে যায়। গ্যাস ট্যাবলেটের তীব্র বিষক্রিয়ায় পুকুরের সব মাছই মারা গেছে।
ভুক্তভোগী চাষি মো. মবিস রহমান কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রাতের আঁধারে কে বা কাহারা শত্রুতা করে আমার সাড়ে ১২ বিঘার পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করেছে। পুকুরে থাকা ছোট-বড় প্রায় ৩০০ মণেরও বেশি মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে আমার প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেল। আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব।”
খবর পেয়ে এলাকার শত শত উৎসুক জনতা পুকুরপাড়ে ভিড় জমান। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও মৎস্য চাষিরা।
কাহালু প্রতিনিধি -শ্রীমান বৈদ্যনাথ 












