০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু বাসন্তী পূজা

‘চৈত্রের প্রাতে
বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর,
ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা।’
সত্যিই আজ দিকে দিকে ধ্বনিত হচ্ছে মর্ত্যেলোকে এসেছে মা বাসন্তী আগমন বার্তা। মর্ত্যের ভক্তদের কাছে আজ থেকে বাসন্তী পূজিত হবেন সাড়ম্বরে। মহাষষ্ঠীতে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীর পূজা এবং বাসন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার থেকে। মহা সাড়ম্বরে ষোড়শ উপচারে সারাদেশে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হয়েছে। এরপর আজ ২৫ মার্চ (বুধবার) সকাল থেকে সপ্তমী পূজার মধ্য দিয়ে মূল আচারের শুরু হয়েছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলতলায় বাসন্তীদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তখন দেবীকে আসার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে দেবী ঘটে (পাত্রবিশেষ) এসে অবস্থান নেবেন। পরে সেই ঘট, বেলপাতা, ডালসহ নবপত্রিকা মূল মন্দিরে স্থাপন করা হবে।
এর মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হলো বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী বাসন্তী দেবীর পূজার।
উপজেলার কইল পূর্বপাড়া বাসন্তী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী মনোরঞ্জন চন্দ্র সরকার (মনো) বলেন, ‘দেবীপতি মহাশক্তি মহাদেবের প্রিয় বিল্ববৃক্ষ তলেই দেবীর আবাহন হয়। এর মধ্য দিয়ে সংকল্প করা হয়, দশমী পর্যন্ত যথাবিধ উপায়ে আমরা ভক্তরা মায়ের পূজা করবো। বাসন্তী পূজার মূল যে আচার সেটা শুরু হয় মহাষষ্ঠীতে আবাহনের মধ্য দিয়ে।
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে আয়োজিত এই উৎসবের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। বাঙালির আদি দুর্গা পূজা নামে পরিচিত, চলবে ২৮ মার্চ শনিবার পর্যন্ত, দেবী দুর্গার বাসন্তী কালীন এই বসন্তের নতুন রূপে মা বাসন্তী দেবী মর্ত্যে আসেন।
এর মাঝে ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠীতে বোধন। আর দশম দিন, অর্থাৎ দশমীতে বিসর্জন। বাসন্তী পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা এই পাঁচদিনই চলে। তবে বাঙালি সমাজে বেশি প্রচার পাওয়া আশ্বিনের দেবীবন্দনা মূল দুর্গাপূজা নয়। এটি ‘অকাল বোধন’ নামে উল্লেখ আছে শাস্ত্রে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মূল বাসন্তী পূজা হয় বসন্তকালে, যেটি বাসন্তী পূজা নামে অভিহিত। সত্যযুগে রাজ্য হারানো সুরথ রাজা ও স্বজন বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা পাহাড়ে ঋষি মেধসের নির্দেশে মর্ত্যেলোকে প্রথম বাসন্তী দেবীর পূজা করেন। আদিপুরাণেও উল্লেখ আছে, বসন্তকালে বাসন্তী পূজার উৎপত্তি হয়েছে করলডেঙ্গা পাহাড়ে। আর ত্রেতাযুগে অযোধ্যার রাজা দশরথপুত্র রামচন্দ্র বনবাসে গিয়ে আশ্বিন মাসে অকালবোধন করেছিলেন। দুর্গার সাহায্যে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করতে অকালবোধন করেছিলেন আশ্বিন মাসের দুর্গা দেবীর পূজা ।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কইল নিমতলা বাসন্তী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী কানু কোমল সরকার এই প্রতিবেদক কে বলেন, ‘মর্ত্যেলোকে দেবী বাসন্তী আগমন করেছিলেন চৈত্র মাসে অর্থাৎ বসন্তকাল। চৈত্র মাসে যে পূজা হয় তাকে বলা হয় বাসন্তী পূজা। আর রাম শরৎকালে দেবীকে আবাহন করেছিলেন। এটি দেবী আগমনের কাল নয় বলে অকাল বোধন। এ পূজা শারদীয় দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। বাঙালিদের কাছে শারদীয় পূজাই সবচেয়ে বড় উৎসব।’ সনাতনীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যেলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে।
পঞ্জিকা মতে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের পর বুধবার ২৫ মার্চ সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে মহাসপ্তমীর পূজা।
বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহাঅষ্টমী পূজা, সেদিন হবে সন্ধিপূজা। শুক্রবার ২৭ মার্চ সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে দর্পন বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে বাসন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গাকে দুর্গতিনাশিনী, শক্তিরূপিণী, মাতৃরূপিণীসহ কল্পিত নানা রূপে পূজা করেন। কারও কাছে দেবী দুর্গা দু:খ, জরা, সংকট বিনাশী সুখ প্রদায়িনী, কারও কাছে মমতাময়ী মা, কারও কাছে অসুরদলনী শক্তির আধার। বাংলা পঞ্জিকামতে, কৈলাস থেকে এ বছর মা বাসন্তী দেবীর মর্ত্যে আগমন হয়েছে নৌকায়, দেবীর আগমন নৌকায় হলে মর্ত্যেলোক ফলম- শস্যবৃদ্ধিস্তথা জলবৃদ্ধি হয় এবং অতিবৃষ্টি বা অনবৃষ্টি হয়।
কিন্তু দেবী ফিরবেন ঘোটকে, অর্থাৎ ঘোড়ায়। শাস্ত্রমতে বলা হয়, ছত্রভঙ্গস্তরমে। অর্থাৎ নৌকায় দেবী বাসন্তীর আগমন বা ঘটকে (ঘোড়ায়) গমন হলে তার ফল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, রাজনৈতিক উত্থান-পতন ঘটে।
কইল নিমতলা বাসন্তী মন্দির পূজা কমিটির সদস্যরা বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে বাসন্তী পুজা শুরু হয়েছে। এটি বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা বিনাশের প্রার্থনা’ করা হবে এবারের পূজায়।’ তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া জেলাসহ দুপচাঁচিয়া উপজেলার কইল গ্রাম, খানপুর গ্রামসহ অনেক মন্দিরে এই বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ট্যাগ:
জনপ্রিয় নিউজ

তালাশ সভাপতি, মাসুদ সাধারণ সম্পাদক, সুশান্ত সাংগঠনিক সম্পাদক।

สล็อตเว็บตรง AI Courses เครดิตฟรี

মঙ্গলবার মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু বাসন্তী পূজা

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

‘চৈত্রের প্রাতে
বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর,
ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা।’
সত্যিই আজ দিকে দিকে ধ্বনিত হচ্ছে মর্ত্যেলোকে এসেছে মা বাসন্তী আগমন বার্তা। মর্ত্যের ভক্তদের কাছে আজ থেকে বাসন্তী পূজিত হবেন সাড়ম্বরে। মহাষষ্ঠীতে চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীর পূজা এবং বাসন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার থেকে। মহা সাড়ম্বরে ষোড়শ উপচারে সারাদেশে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হয়েছে। এরপর আজ ২৫ মার্চ (বুধবার) সকাল থেকে সপ্তমী পূজার মধ্য দিয়ে মূল আচারের শুরু হয়েছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলতলায় বাসন্তীদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তখন দেবীকে আসার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে দেবী ঘটে (পাত্রবিশেষ) এসে অবস্থান নেবেন। পরে সেই ঘট, বেলপাতা, ডালসহ নবপত্রিকা মূল মন্দিরে স্থাপন করা হবে।
এর মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হলো বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী বাসন্তী দেবীর পূজার।
উপজেলার কইল পূর্বপাড়া বাসন্তী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী মনোরঞ্জন চন্দ্র সরকার (মনো) বলেন, ‘দেবীপতি মহাশক্তি মহাদেবের প্রিয় বিল্ববৃক্ষ তলেই দেবীর আবাহন হয়। এর মধ্য দিয়ে সংকল্প করা হয়, দশমী পর্যন্ত যথাবিধ উপায়ে আমরা ভক্তরা মায়ের পূজা করবো। বাসন্তী পূজার মূল যে আচার সেটা শুরু হয় মহাষষ্ঠীতে আবাহনের মধ্য দিয়ে।
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে আয়োজিত এই উৎসবের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। বাঙালির আদি দুর্গা পূজা নামে পরিচিত, চলবে ২৮ মার্চ শনিবার পর্যন্ত, দেবী দুর্গার বাসন্তী কালীন এই বসন্তের নতুন রূপে মা বাসন্তী দেবী মর্ত্যে আসেন।
এর মাঝে ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠীতে বোধন। আর দশম দিন, অর্থাৎ দশমীতে বিসর্জন। বাসন্তী পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা এই পাঁচদিনই চলে। তবে বাঙালি সমাজে বেশি প্রচার পাওয়া আশ্বিনের দেবীবন্দনা মূল দুর্গাপূজা নয়। এটি ‘অকাল বোধন’ নামে উল্লেখ আছে শাস্ত্রে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মূল বাসন্তী পূজা হয় বসন্তকালে, যেটি বাসন্তী পূজা নামে অভিহিত। সত্যযুগে রাজ্য হারানো সুরথ রাজা ও স্বজন বিতাড়িত সমাধি বৈশ্য চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা পাহাড়ে ঋষি মেধসের নির্দেশে মর্ত্যেলোকে প্রথম বাসন্তী দেবীর পূজা করেন। আদিপুরাণেও উল্লেখ আছে, বসন্তকালে বাসন্তী পূজার উৎপত্তি হয়েছে করলডেঙ্গা পাহাড়ে। আর ত্রেতাযুগে অযোধ্যার রাজা দশরথপুত্র রামচন্দ্র বনবাসে গিয়ে আশ্বিন মাসে অকালবোধন করেছিলেন। দুর্গার সাহায্যে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করতে অকালবোধন করেছিলেন আশ্বিন মাসের দুর্গা দেবীর পূজা ।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কইল নিমতলা বাসন্তী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী কানু কোমল সরকার এই প্রতিবেদক কে বলেন, ‘মর্ত্যেলোকে দেবী বাসন্তী আগমন করেছিলেন চৈত্র মাসে অর্থাৎ বসন্তকাল। চৈত্র মাসে যে পূজা হয় তাকে বলা হয় বাসন্তী পূজা। আর রাম শরৎকালে দেবীকে আবাহন করেছিলেন। এটি দেবী আগমনের কাল নয় বলে অকাল বোধন। এ পূজা শারদীয় দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। বাঙালিদের কাছে শারদীয় পূজাই সবচেয়ে বড় উৎসব।’ সনাতনীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যেলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে।
পঞ্জিকা মতে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের পর বুধবার ২৫ মার্চ সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে মহাসপ্তমীর পূজা।
বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহাঅষ্টমী পূজা, সেদিন হবে সন্ধিপূজা। শুক্রবার ২৭ মার্চ সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে দর্পন বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে বাসন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গাকে দুর্গতিনাশিনী, শক্তিরূপিণী, মাতৃরূপিণীসহ কল্পিত নানা রূপে পূজা করেন। কারও কাছে দেবী দুর্গা দু:খ, জরা, সংকট বিনাশী সুখ প্রদায়িনী, কারও কাছে মমতাময়ী মা, কারও কাছে অসুরদলনী শক্তির আধার। বাংলা পঞ্জিকামতে, কৈলাস থেকে এ বছর মা বাসন্তী দেবীর মর্ত্যে আগমন হয়েছে নৌকায়, দেবীর আগমন নৌকায় হলে মর্ত্যেলোক ফলম- শস্যবৃদ্ধিস্তথা জলবৃদ্ধি হয় এবং অতিবৃষ্টি বা অনবৃষ্টি হয়।
কিন্তু দেবী ফিরবেন ঘোটকে, অর্থাৎ ঘোড়ায়। শাস্ত্রমতে বলা হয়, ছত্রভঙ্গস্তরমে। অর্থাৎ নৌকায় দেবী বাসন্তীর আগমন বা ঘটকে (ঘোড়ায়) গমন হলে তার ফল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, রাজনৈতিক উত্থান-পতন ঘটে।
কইল নিমতলা বাসন্তী মন্দির পূজা কমিটির সদস্যরা বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে বাসন্তী পুজা শুরু হয়েছে। এটি বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা বিনাশের প্রার্থনা’ করা হবে এবারের পূজায়।’ তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া জেলাসহ দুপচাঁচিয়া উপজেলার কইল গ্রাম, খানপুর গ্রামসহ অনেক মন্দিরে এই বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।