০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আদমদীঘিতে মরিয়ম নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

বগুড়ার আদমদীঘিতে মরিয়ম বেগম নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু । গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জিনইর গ্রামে স্বামী ফেরদৌস প্রামানিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী ফেরদৌস প্রামানিক পলাতক রয়েছেন।খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল ৩ টার দিকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের জিনইর গ্রামের ইসমাইল প্রামানিক এর ছেলে ফেরদৌস প্রামানিকের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের মৃত জামাল সরদারের মেয়ে মরিয়ম বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।কয়েক বছর আগে ফেরদৌস প্রামানিক প্রবাসে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি আদমদীঘির কোমারপুর গ্রামের রহিউদ্দীনের মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে ফেরদৌসের পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
এ নিয়ে গ্রামে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ফেরদৌস প্রামানিক দেশে ফেরেন। এরপর থেকে সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে ফেরদৌস প্রামানিক প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে মানসিক নির্যাতন করেন বলে জানান স্থানীয়রা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের মাটির ঘরের দ্বিতীয় তলায় ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়ম বেগমকে দেখতে পান প্রতিবেশীরা।পরে তারা থানা-পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পর থেকে স্বামী ফেরদৌস প্রামানিক গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানান গ্রামবাসীরা।
নিহতের ভাই মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার বোন মরিয়ম বেগমকে সু-কৌশলে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আদমদীঘি থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

ট্যাগ:
জনপ্রিয় নিউজ

তালাশ সভাপতি, মাসুদ সাধারণ সম্পাদক, সুশান্ত সাংগঠনিক সম্পাদক।

สล็อตเว็บตรง AI Courses เครดิตฟรี

আদমদীঘিতে মরিয়ম নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘিতে মরিয়ম বেগম নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু । গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জিনইর গ্রামে স্বামী ফেরদৌস প্রামানিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী ফেরদৌস প্রামানিক পলাতক রয়েছেন।খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল ৩ টার দিকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের জিনইর গ্রামের ইসমাইল প্রামানিক এর ছেলে ফেরদৌস প্রামানিকের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের মৃত জামাল সরদারের মেয়ে মরিয়ম বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।কয়েক বছর আগে ফেরদৌস প্রামানিক প্রবাসে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি আদমদীঘির কোমারপুর গ্রামের রহিউদ্দীনের মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে ফেরদৌসের পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
এ নিয়ে গ্রামে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ফেরদৌস প্রামানিক দেশে ফেরেন। এরপর থেকে সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে ফেরদৌস প্রামানিক প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে মানসিক নির্যাতন করেন বলে জানান স্থানীয়রা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের মাটির ঘরের দ্বিতীয় তলায় ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়ম বেগমকে দেখতে পান প্রতিবেশীরা।পরে তারা থানা-পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পর থেকে স্বামী ফেরদৌস প্রামানিক গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানান গ্রামবাসীরা।
নিহতের ভাই মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার বোন মরিয়ম বেগমকে সু-কৌশলে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আদমদীঘি থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।