০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় ২৮ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার,মালিকে সম্পদের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন।

মাগুরা শহরের কলেজপাড়ার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা,৪ বোতল ফেনসিডিল,প্রায় ২০ লাখ টাকা,টাকা গণনার মেশিন,চারটি ল্যাপটপ,খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি ও প্রেস লেখা মাইক্রোফোন উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর রাতে র‌্যাব-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পের অভিযানে এসব উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাশেদ শেখ (৪১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন (৩৫) নামে আরেক ব্যক্তিকে মাদক কারবারের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী,মাগুরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ায় স্বপ্ন বিলাস ভবনের চতুর্থ তলার ডি-৩ নম্বর ফ্ল্যাটে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে অভিযান চালানো হয়। একটি গোলাপি রঙের লাগেজ থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়,যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৪ লাখ টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা,৪বোতল ফেনসিডিল,একটি টাকা গণনার মেশিন,৪টি ল্যাপটপ,২টি ওয়াকিটকি,২টি মুঠোফোন,পিস্তলসদৃশ একটি গ্যাস লাইটার এবং ‘PRESS’ ও ‘ক্রাইম তালাশ’ লেখা মাইক্রোফোন জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনার পর ফ্লাটের মালিক মাগুরা সদর থানার সামনে অবস্থিত বেনারসি শাড়ি হাউজের মালিক তাপস এবং তাঁর ভাই তনয়কে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে,গ্রেফতার হওয়া রাশেদ শেখ এবং পালাতক দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কী?শুধুই ফ্লাট মালিক ও ভাড়াটিয়া সম্পর্ক? নাকি রয়েছে এর পিছনে গভীর কোনো রহস্য?যে তাপসের এক সময়ে অর্থ অভাবে খুবই খারাপ সময় কেঁটেছে, তিনি কি এমন আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়ে গেলেন যে,মাগুরা হাসপাতাল পাড়ায় ও নতুন বাজারে বাড়ী এবং ঢাকার সভরে,বাড্ডায় দুটি বাড়ীর মালিক বনে গেলেন?এর মধ্যে হরিশ দত্ত সড়কের সোনাপট্টি এলাকার ঢাকেশ্বরী জুয়েলার্স,কলেজপাড়ার স্বপ্ন বিলাস ভবন, হাসপাতালপাড়ার রব্বানী গ্রীন টাওয়ারের সাত তলার একটি ফ্ল্যাট,নতুন বাজার এলাকার একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন এবং কাউন্সিলপাড়ার একটি ফ্ল্যাটের কথা,গ্রামের বাড়ী গোপালগ্রাম ইউপির তরাশে ও শত্রুজিৎপুরে তাদের সম্পাদের বিষয় ছাড়াও মাগুরা সদর থানার সামনে বেনারসি হাউজ,সোনাপট্রিতে একটি সোনার দোকান স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।বিগত সরকারের সময় একটি দোকান শেখ সেলিমের এক ভাই পরিচয় দিয়ে শহরের এমআর রোডে জামে মসজিদের কাছে একটি দোকান তাকে দোকান মালিক দিতে রাজি না থাকায়, সেটা মালিকের কাছ থেকে জোর করে ডিট করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।প্রেস লেখা মাইক্রোফোন ও ওয়াকিটকি কেন?অভিযানে ‘PRESS’ ও ‘ক্রাইম তালাশ’ লেখা মাইক্রোফোন এবং ওয়াকিটকি উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব সরঞ্জাম কার মালিকানাধীন ছিল,কী কাজে ব্যবহার করা হতো এবং উদ্ধার হওয়া মাদক কারবারের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না,তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,উদ্ধার করা আলামত জব্দ করে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা দীপ্ত কুমার বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার এবং মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন বলেন তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে ০৯ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা নাম্বার ২৪। তবে উক্ত ঘটনায় ফ্ল্যাটের মালিক পক্ষ তনয় এবং তার ভাই তাপসের বক্তব্য নেওয়ার জন্য দোকানে যেয়ে তাদের পাওয়া যায়নি,মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ
লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয় পোস্ট

মাগুরায় ২৮ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার,মালিকে সম্পদের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন।

মাগুরায় ২৮ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার,মালিকে সম্পদের উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন।

আপডেটের সময় : ০৩:৩২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরা শহরের কলেজপাড়ার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা,৪ বোতল ফেনসিডিল,প্রায় ২০ লাখ টাকা,টাকা গণনার মেশিন,চারটি ল্যাপটপ,খেলনা পিস্তল, ওয়াকিটকি ও প্রেস লেখা মাইক্রোফোন উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর রাতে র‌্যাব-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পের অভিযানে এসব উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাশেদ শেখ (৪১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন (৩৫) নামে আরেক ব্যক্তিকে মাদক কারবারের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী,মাগুরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ায় স্বপ্ন বিলাস ভবনের চতুর্থ তলার ডি-৩ নম্বর ফ্ল্যাটে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে অভিযান চালানো হয়। একটি গোলাপি রঙের লাগেজ থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়,যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৪ লাখ টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা,৪বোতল ফেনসিডিল,একটি টাকা গণনার মেশিন,৪টি ল্যাপটপ,২টি ওয়াকিটকি,২টি মুঠোফোন,পিস্তলসদৃশ একটি গ্যাস লাইটার এবং ‘PRESS’ ও ‘ক্রাইম তালাশ’ লেখা মাইক্রোফোন জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনার পর ফ্লাটের মালিক মাগুরা সদর থানার সামনে অবস্থিত বেনারসি শাড়ি হাউজের মালিক তাপস এবং তাঁর ভাই তনয়কে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে,গ্রেফতার হওয়া রাশেদ শেখ এবং পালাতক দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কী?শুধুই ফ্লাট মালিক ও ভাড়াটিয়া সম্পর্ক? নাকি রয়েছে এর পিছনে গভীর কোনো রহস্য?যে তাপসের এক সময়ে অর্থ অভাবে খুবই খারাপ সময় কেঁটেছে, তিনি কি এমন আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়ে গেলেন যে,মাগুরা হাসপাতাল পাড়ায় ও নতুন বাজারে বাড়ী এবং ঢাকার সভরে,বাড্ডায় দুটি বাড়ীর মালিক বনে গেলেন?এর মধ্যে হরিশ দত্ত সড়কের সোনাপট্টি এলাকার ঢাকেশ্বরী জুয়েলার্স,কলেজপাড়ার স্বপ্ন বিলাস ভবন, হাসপাতালপাড়ার রব্বানী গ্রীন টাওয়ারের সাত তলার একটি ফ্ল্যাট,নতুন বাজার এলাকার একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন এবং কাউন্সিলপাড়ার একটি ফ্ল্যাটের কথা,গ্রামের বাড়ী গোপালগ্রাম ইউপির তরাশে ও শত্রুজিৎপুরে তাদের সম্পাদের বিষয় ছাড়াও মাগুরা সদর থানার সামনে বেনারসি হাউজ,সোনাপট্রিতে একটি সোনার দোকান স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।বিগত সরকারের সময় একটি দোকান শেখ সেলিমের এক ভাই পরিচয় দিয়ে শহরের এমআর রোডে জামে মসজিদের কাছে একটি দোকান তাকে দোকান মালিক দিতে রাজি না থাকায়, সেটা মালিকের কাছ থেকে জোর করে ডিট করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।প্রেস লেখা মাইক্রোফোন ও ওয়াকিটকি কেন?অভিযানে ‘PRESS’ ও ‘ক্রাইম তালাশ’ লেখা মাইক্রোফোন এবং ওয়াকিটকি উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব সরঞ্জাম কার মালিকানাধীন ছিল,কী কাজে ব্যবহার করা হতো এবং উদ্ধার হওয়া মাদক কারবারের সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না,তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,উদ্ধার করা আলামত জব্দ করে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা দীপ্ত কুমার বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার এবং মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা ও সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন বলেন তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে ০৯ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা নাম্বার ২৪। তবে উক্ত ঘটনায় ফ্ল্যাটের মালিক পক্ষ তনয় এবং তার ভাই তাপসের বক্তব্য নেওয়ার জন্য দোকানে যেয়ে তাদের পাওয়া যায়নি,মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।